আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল দক্ষিণ কলকাতায়। আনন্দপুর থানা এলাকার অন্তর্গত নাজিরাবাদে আগুন লাগার ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজ্যবাসী। সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই এদিন “নরেন্দ্রপুর থানা চলো” অভিযানের ডাক দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিজেপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পরই সম্পূর্ণবিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। বিজেপির অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করার চেষ্টা করছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চরম গাফিলতির অভিযোগও তোলা হয়। এই আবহেই বৃহস্পতিবার নাজিরাবাদে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে “নরেন্দ্রপুর থানা চলো” অভিযানের ডাক দেন। তাঁর বক্তব্য, যতক্ষণ না প্রশাসন জবাব দিচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। এই ডাকের পর থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।

তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, প্রশাসন তার কাজ করছে এবং আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মিছিল নিয়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে বিষয়টি গড়ায়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাস থেকে শুক্রবার বিজেপিকে শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গড়িয়া শীতলা মন্দির অথবা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে মিছিল শুরু করতে পারবে বিজেপি। মিছিল নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি মিললেও, থানার ২০০ মিটার আগে থামতে হবে নেতা-কর্মীদের। সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টার মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সর্বাধিক ২ হাজার কর্মী-সমর্থক এই মিছিলে অংশ নিতে পারবেন। মিছিল শেষে মাত্র পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে পারবে। আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। আদালতের এই নির্দেশের পরই শুক্রবার সকাল থেকে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়।
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রাণ ও সম্পত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “এই রাজ্যে মানুষের নিরাপত্তা নেই। আগুন লাগছে, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নীরব দর্শক।” তাঁর দাবি, নাজিরাবাদের ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
অন্যদিকে, এই কর্মসূচি ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, প্রশাসন তার কাজ করছে এবং আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপির মিছিলকে তারা “রাজনৈতিক নাটক” বলেও কটাক্ষ করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রশাসনের উপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছে শাসক শিবির।
সব মিলিয়ে নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ—এই পরিস্থিতিতে নজর সবার নরেন্দ্রপুর থানা ও আশপাশের এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “এই রাজ্যে মানুষের নিরাপত্তা নেই। আগুন লাগছে, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নীরব দর্শক।”





