রাজনীতিতে অনেক সময় শব্দের চেয়েও নীরবতা বেশি প্রশ্ন তোলে। আবার কখনও কোনও সফর, কোনও দৃশ্য, আচমকা আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সাম্প্রতিক দিল্লি (Delhi)সফর ঘিরে ঠিক তেমনই এক রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচি বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, এই সফরের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীর হিসাব-নিকাশ। রাজ্যের বাস্তব সমস্যা থেকে নজর সরাতেই এই সফর—এমন অভিযোগেই সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(suvendu Adhikari)।
দিল্লি সফরকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এটি কোনও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজ্যের ব্যর্থতা ঢাকতেই পরিকল্পিত ‘নাটক’। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রশাসনিক গাফিলতি, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একের পর এক অভিযোগ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যখন চরমে, ঠিক তখনই দিল্লি সফরের মাধ্যমে বিষয় ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে নাটক সাজিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের উপর দায় চাপানোর কৌশল নিয়েছে শাসকদল।
এরপর শুভেন্দু অধিকারী আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি বলেন, রাজ্যের বুথ লেভেল অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ভুলভাবে নথিভুক্ত করানো হয়েছে। এর ফলে বহু সাধারণ মানুষকে অকারণে শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি। শুভেন্দুর দাবি, এই পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃত ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে পরে শাসকদল কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারে।
শুধু ভোটার তালিকা নয়, রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করে রাজ্যের জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের বাস্তব চিত্র ভয়াবহ—স্কুল আছে কিন্তু শিক্ষক নেই, কোথাও ছাত্র নেই, শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ থমকে, চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একাধিক জায়গায় অগ্নিকাণ্ডে মানুষের মৃত্যু হলেও মুখ্যমন্ত্রীর নজর নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, রাজ্যের এই সংকটের মাঝেই দিল্লিতে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।
দিল্লি সফর ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণেও পিছপা হননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রাতের পোশাক পরে দিল্লি গেলেও মাইক নিতে ভোলেননি।” তাঁর দাবি, শুরুতে নাটক যতই বড় হোক, তা বেশিক্ষণ টেকেনি এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকাও সেই নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত কোনও বুথ লেভেল অফিসারের যদি মৃত্যু ঘটে থাকে, তার দায় বিজেপি বা কেন্দ্রের নয়—এই দায় সম্পূর্ণ ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের নিতে হবে। এই সব ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাকও দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে বিজেপি পথে নামবে, এবং এই লড়াই থামবে না।





