ভোটের বছর মানেই বাজেট (budget 2026)ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়া—এটা নতুন কিছু নয়। তবে এ বার কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পর বাংলার (west bengal)রাজনীতিতে যে বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে, তার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একেবারে ঘরের কথা—বাঙালির খাদ্যাভ্যাস। মাছ-মাংস, ভাত-ডাল ঘিরে যে সংস্কৃতি, তা নিয়েই রাজনৈতিক তরজা। বাজেটের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলার বঞ্চনার অভিযোগে সরব, ঠিক তখনই সেই অভিযোগকে ঘিরে পাল্টা আক্রমণে নামল বিজেপি। ফলে অর্থনীতি থেকে সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে লড়াইটা আরও তীব্র হচ্ছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের সেই পুরনো অভিযোগ থেকে—বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়ায় বাধা আসবে। এই প্রচারকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক তথা অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ি। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বাজেটের দিকেই আঙুল তুলে প্রশ্ন তোলেন—যেখানে ৫০০টি নতুন জলাধার নির্মাণ, উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্য উন্নয়ন এবং পশুপালনে জোর দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে, সেখানে মাছ-মাংস বন্ধ হওয়ার গল্প এল কোথা থেকে? তাঁর দাবি, বাজেটের আলোতেই তৃণমূলের এই প্রচার মিথ্যে প্রমাণিত।
তবে এই লড়াই যে শুধুই বাজেটের খুঁটিনাটি নিয়ে নয়, তা স্পষ্ট বিধানসভা ভোটের অঙ্কে। চলতি বছরই রাজ্যে নির্বাচন। বিজেপিকে ‘সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপকারী’ হিসেবে তুলে ধরতে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছে। অশোক লাহিড়ির মতে, নির্মলা সীতারামনের বাজেট শুধু উন্নয়নের রূপরেখা দেয়নি, তৃণমূলের মিথ্যাচারের ফানুসও ফাটিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোট যত এগোবে, এই ইস্যুতে বিজেপির আক্রমণ আরও তীব্র হবে।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে সরাসরি আক্রমণে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “চোরের মায়ের গলা। বাংলাকে কিছু দেয়নি। এ বাজেট “হাম্পটি–ডাম্পটি বাজেট।” রাজ্যকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর। কিন্তু বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন—এই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কোথায়? অশোক লাহিড়ির যুক্তি, বিরোধী শাসিত তামিলনাড়ু যদি এগোতে পারে, তবে বাংলায় বারবার বঞ্চনার অভিযোগ তোলা কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত?
কটাক্ষের সুরেই বিজেপি নেতৃত্ব আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ঋণ নিয়ে প্রকল্প চালানোর রাজনীতির সমালোচনা করে অশোক লাহিড়ি বলেন, জনহিতকর সরকার শুধু খরচ বাড়ায় না, সম্পদ সৃষ্টিতেও জোর দেয়। সেই কারণেই মূলধনী ব্যয় ১১ লক্ষ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। নারী সুরক্ষা, শিল্পায়ন, হাই-স্পিড করিডর—সব ক্ষেত্রেই রাজ্যের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। শিলিগুড়ির নাম যখন কেন্দ্রীয় হাই-স্পিড করিডরের তালিকায়, তখন ‘বাংলা বঞ্চিত’ স্লোগান কতটা টেকসই—এই প্রশ্নই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে।





