২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট (budget 2026) পেশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সব পক্ষই বাজেটের দিকে নজর রেখেছে। রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দ ও প্রকল্প ঘোষণা কি রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে, সেই দিকেই বেশি মনোযোগ। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের(west bengal)মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata Banerjee)বাজেটকে কটাক্ষ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, “শুধু আওয়াজ আছে কিন্তু দিশাহীন বাজেট, ভিশন, মিশন কিছুই নেই। মহিলা, কৃষক ও গরীবদের কথা এখানে নেই। যুবকদের জন্যও কিছু নেই। শিক্ষা ও সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বাজেট তো নয়, একদম মিথ্যের জঞ্জাল।” মমতার এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তিনি মনে করছেন এই বাজেট জনগণকে উপকৃত করবে না এবং নির্বাচনী লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিহার তো এর আগে বাজেট থেকে সুবিধা পেয়েছিল, বাংলা বঞ্চিত হয়েছে। ভোটের আগে বাংলাকে এভাবে বঞ্চিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন্দ্র রাজনীতির স্বার্থে বাংলার মানুষকে উপেক্ষা করছে।” তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দকে জনমুখী নয়, বরং রাজনৈতিক লক্ষ্যভিত্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। শেয়ারবাজারে অবনতি এবং সেনসেক্সে প্রায় ১০০০ পয়েন্ট পতনের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্র ফ্রেট করিডরের কথা বলছে, যা তিনি ২০০৯ সালে বলেছিলেন। তবে এতদিনেও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্র প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়ন চায় কি না, নাকি শুধুমাত্র নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি হিসাবেই বাজেট তৈরি করছে। এছাড়াও শিক্ষার জন্য বরাদ্দ কমানো এবং যুবকদের উপেক্ষা বাজেটের গঠনগত দুর্বলতাকে তুলে ধরেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, এই বাজেট শিক্ষার্থী, যুবক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে উপকৃত করতে পারবে না। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে এই বাজেটে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোট দেবে, সেই আগে বাংলাকে কিছুই দেওয়া হয়নি। দেশের সব ক্ষেত্রকে ধ্বংস করছে এই সরকার।” মমতার এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, কেন্দ্রীয় বাজেট রাজনৈতিক প্রভাবকেন্দ্রিক এবং জনগণকেন্দ্রিক নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজেট সমালোচনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতি তুলে ধরেছেন, যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ও যুব সমাজকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। বাজেটের তিক্ত সমালোচনা এবং বাংলার বঞ্চনার প্রসঙ্গ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে কৌতূহলও তৈরি করছে।





