রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এখন একটা উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের দিকে এগোচ্ছে। বাজেটের ঘোষণার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে। একদিকে সাধারণ মানুষ নতুন ঘোষণায় খুশি, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল সেই অর্থের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বীরভূমের তৃণমূল কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।
সোমবার বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে মহিলাদের সঙ্গে মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি নিজে হাতে মিষ্টি বিতরণ করছিলেন, সেই ফাঁকেই জানান, নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়জয়কার হবে। ফুরফুরে মেজাজে কেষ্ট মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, বাজেটের ঘোষণার পরই মানুষ বিশেষভাবে খুশি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বাজেটে সবচেয়ে বেশি খুশি মহিলারা, কারণ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
অনুব্রত মণ্ডল আরও বলেন, “কেন্দ্রের বাজেট পশ্চিমবঙ্গকে কোনো বিশেষ সাহায্য দেয়নি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজেট সাধারণ মানুষ, বেকার যুবক, খেটে খাওয়া শ্রমিকদের জন্য। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ানো হয়েছে, আশা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ৪ শতাংশ ডিএও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেন।”
রাজ্যের বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল ভোট নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীও করেন। তিনি বলেন, “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২৩০ থেকে ২৫০ আসন পাবে।” তবে এবারের ভোটের দাওয়াই বা আসল ভোটের কৌশল নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে নারাজ তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত কেবল সংক্ষেপে বলেন, “সেটা পরে।”
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন আগ্রহের বিষয় হলো, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার বৃদ্ধি ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে। অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্য এবং বোলপুরে মিষ্টি বিতরণের ঘটনা এক ধরনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সাধারণ মানুষও বাজেটের এই উপকারিতা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন, আর রাজনৈতিক মহল নতুন কৌশল ও নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের দিকে খোঁজ রাখতে শুরু করেছে।





