ঢাকা (Dhaka) শহরে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হঠাৎ হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। জাতীয় জাদুঘরের (National Museum) সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (Multimedia Reporters Association) ও ঢাকা কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আজ আমরা নিজেদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছি। এটি এক সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা ছিল। পুলিশ যদি পোশাক পরিবর্তন করেও থাকে, তাদের আচরণ পরিবর্তন হয়নি। আমাদের সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত।” বক্তারা আরও দাবি করেন, হামলায় ডিসি মাসুদের (DC Masud) উপস্থিতি ছিল এবং এই হামলায় তার অনুমোদন ছিল। মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের খুঁজে খুঁজে হেনস্থা করা হয়েছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যখন সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে পুলিশ পিটাচ্ছে এবং আমরা সেই সংবাদ সংগ্রহ করছি, তখনই সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। যা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। মনে হয়েছে, পুলিশ গতকাল বিশেষভাবে সাংবাদিকদের পেটানোর কর্মসূচিতে নেমেছিল।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, হামলা ছিল স্বতঃসিদ্ধ নয়, বরং পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম (Fakhrul Islam) এবং সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান (Aktaruzzaman) সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎপরতা এবং পুলিশের এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, “সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচারী আচরণ সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু পুলিশের এই আচরণ আমাদের কাজকে সীমিত করতে চাইছে। সাংবাদিকদের কেন হত্যা করা হবে? আমরা চাই সুষ্ঠু বিচার। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচার হয় না, ততক্ষণ আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।” তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা এখন নাগরিক অধিকার সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।

সমাবেশে বক্তারা প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি থামাবো না। পুলিশের এমন আচরণ বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অপরিহার্য।” তারা আশ্বাস দেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি আনা হবে এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে। এভাবে, শনিবারের প্রতিবাদ সমাবেশটি শুধু সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়েই নয়, বরং স্বাধীন সংবাদ প্রকাশ ও নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত হলো। মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের পেশাগত দায়িত্বের ওপর আঘাত করার কোনো অধিকার পুলিশের নেই।





