২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাম শিবিরের জোট-অঙ্ক জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। একদিকে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্কের রেশ, অন্যদিকে আইএসএফের(ISF)আসন দাবি—দুই চাপেই কার্যত দিশেহারা বামফ্রন্ট। বাইরে থেকে যতই ঐক্যের ছবি দেখানো হোক না কেন, ভিতরে ভিতরে অসন্তোষের সুর এখন আর চাপা থাকছে না। Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance—এই তিন নামই এখন বাম রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত কী-ওয়ার্ড।
ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠক বাম রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সেলিমকে। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, একাধিক নেতা প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানান। বামফ্রন্টের বৈঠকেও শরিক দলগুলি হুমায়ুন ইস্যুতে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েনি। আলিমুদ্দিনে সেদিন কার্যত উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর। Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance ইস্যুতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মত শরিকদের।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দল আগের তুলনায় অনেক বেশি আসনে লড়াই করতে চায়। সূত্রের খবর, আইএসএফের লক্ষ্য প্রায় ৫০টি আসন। কিন্তু এখানেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ বামফ্রন্টের অন্যান্য শরিক দল। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আইএসএফের জন্য বাড়তি কোনও আসন ছাড়তে রাজি নয়। ফলে Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance ঘিরে জোটের অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে।
জোটের এই টানাপোড়েন সামাল দিতে এবার সক্রিয় হচ্ছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সূত্রের খবর, শরিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। প্রয়োজনে বড় শরিক সিপিএম আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেও যেতে পারে। লক্ষ্য একটাই—২৬-এর বৈতরণী পার করতে আইএসএফকে সঙ্গে রেখেই জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। তবে শরিকদের স্পষ্ট অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ভোটারদের কাছে বামেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এখানেই Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সিপিএম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত আসন সমঝোতা শেষ করতে চায় দল। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকেই অনেক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে বলে মত আলিমুদ্দিনের অন্দরে। সেলিম–সুজনরা চাইছেন, দীর্ঘ টানাপোড়েন না টেনে দ্রুত জোটের রূপরেখা স্পষ্ট করতে। কিন্তু আইএসএফের ৫০ আসনের দাবি মানতে হলে বামফ্রন্টকে নতুন করে পুরো জোট অঙ্ক সাজাতে হবে—যা সহজ নয়। এখানেও Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance প্রশ্নের কেন্দ্রে।
যেখানে সিপিএম হুমায়ুন কবীর থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে, সেখানে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী কৌশলী অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি হুমায়ুনের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। আইএসএফ সূত্রে জানা যাচ্ছে, হুমায়ুন প্রসঙ্গে দলের চূড়ান্ত অবস্থান ঠিক হবে আগামিকাল রাজ্য কমিটির বৈঠকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—নওশাদ কি জোট-অঙ্কে চাপ বাড়িয়ে দর কষাকষির খেলায় নামছেন? Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance এখন শুধু বিতর্ক নয়, রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির হাতিয়ার।
সব মিলিয়ে বাম শিবিরের সামনে সময় খুবই কম, অথচ প্রশ্ন অনেক। আইএসএফের দাবি, শরিকদের আপত্তি, হুমায়ুন ইস্যু—সব একসঙ্গে সামাল দিতে পারবে তো বামফ্রন্ট? না কি এই জোট-অঙ্কই ভবিষ্যতে বড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে? ২২ ফেব্রুয়ারির পরই স্পষ্ট হবে—Humayun Kabir, ISF, CPIM Alliance শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে।





