২০২৬ ভোটের আগে বাম জোট কি আমূল বদলে যাচ্ছে?
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বাম জোট কি এবার কংগ্রেসকে কার্যত ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ধরে এগোচ্ছে? একুশের ভরাডুবির পর বামফ্রন্ট যে আর আগের রাস্তায় হাঁটছে না, তার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সাম্প্রতিক তৎপরতায়। কংগ্রেসকে দূরে সরিয়ে নতুন শক্তির দিকে ঝোঁক—এই সমীকরণই এখন রাজনৈতিক মহলের গরম চা-চর্চা। হুমায়ুন–সেলিম বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা, বিতর্ক ও প্রবল রাজনৈতিক ঝড়।
‘আগে ঘর গোছাও, পরে দর কষাকষি’—বাম জোটের কড়া লাইন
সিপিআইএম-এর বক্তব্যে আর কোনও রাখঢাক নেই। আগে নিজেদের মধ্যে ঐক্য, তার পর বাইরের জোট। পুজোর পর থেকে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে বামফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে। সেলিম স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, বাম জোট এখন ‘ফাইনাল স্টেজ’-এ। এই অবস্থান আসলে কংগ্রেসের প্রতি একপ্রকার বার্তা—অনিশ্চয়তা আর সিদ্ধান্তহীনতার রাজনীতি আর বরদাস্ত নয়।
একুশের ধাক্কা: কংগ্রেসের উপর আস্থা ভাঙার শুরু
২০২১ সালে বাম–কংগ্রেস–আইএসএফ জোট হয়েছিল। ফল? কার্যত শূন্য। একমাত্র নওশাদ সিদ্দিকির জয় ছাড়া আর কিছুই ঘরে আসেনি। সেই অভিজ্ঞতার পর থেকেই বাম জোট বুঝে গিয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে থাকলেই ভোটব্যাংক সুরক্ষিত থাকবে—এই ধারণা আর কাজ করে না। সিপিআইএমএল লিবারেশনের মতো দল বামফ্রন্টে না থেকেও সহযোগী হতে রাজি, কিন্তু কংগ্রেসের অবস্থান আজও ধোঁয়াশা।

হুমায়ুন কবীর এন্ট্রি: বাম জোটে নতুন বিস্ফোরক সমীকরণ
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর-এর সঙ্গে সেলিমের বৈঠক। তৃণমূল ছেড়ে তৈরি হওয়া জনতা উন্নয়ন পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে বাম জোট গঠনের জল্পনা রাজনীতিতে আগুন ঢেলেছে। নিউটাউনের বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকের খবর সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—কংগ্রেস কি এবার একেবারেই ব্রাত্য?
কুণাল ঘোষের আক্রমণ: ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা’
এই জোট-রাজনীতি নিয়ে তৃণমূল একেবারে আক্রমণাত্মক। মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, সিপিআইএম এখন হোটেলে হোটেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, বাম জোট-এর আর ২৯৪ আসনে একা লড়ার ক্ষমতা নেই বলেই কখনও কংগ্রেস, কখনও আইএসএফ, কখনও আবার নতুন দলের দরজায় কড়া নাড়ছে বামেরা।
কংগ্রেসের সিদ্ধান্তহীনতাই কি বাম জোটের ধৈর্যচ্যুতি?
অন্যদিকে কংগ্রেস শিবিরে স্পষ্ট অস্বস্তি। প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী আগেই আইএসএফ জোট নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। আজ পরিস্থিতি আরও জটিল। অভিযোগ, বিজেপি–তৃণমূল বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করতে কংগ্রেস ব্যর্থ। এই দ্বিধাই বাম জোট-কে কংগ্রেস থেকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
শেষ প্রশ্ন: ঝুঁকির খেলায় নামছে বাম জোট?
সব মিলিয়ে একুশের পর বাম রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট ট্রেন্ড চোখে পড়ছে—নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝোঁক, পুরনো শরিককে পিছনে ফেলা। প্রশ্ন একটাই—এই কৌশল কি বাম জোট-কে নতুন করে প্রাণ দেবে, নাকি কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আরও বিপজ্জনক এক রাজনৈতিক পরীক্ষায় নামছে তারা? ২০২৬ যত কাছে আসবে, এই প্রশ্নের উত্তর ততই নির্মমভাবে সামনে আসবে।





