কোচবিহারের (Cooch Behar) শীতলখুচি এলাকায় আজ অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ব্রিজ ভেঙে-বিপত্তি শীতলকুচিতে! শুক্রবার সকালটা শুরু হয়েছিল এক অজানা আতঙ্ক নিয়ে। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল এলাকার পরিবেশ, কিন্তু আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে দেবনাথপাড়া সংলগ্ন এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ভিড় জমে যায় গিরিধারী নদীর পাড়ে। কী হয়েছে, কেন এমন শব্দ—এই প্রশ্নই তখন সবার মুখে মুখে। কেউই বুঝতে পারেননি, সামান্য সময়ের ব্যবধানে কত বড় বিপদ এড়িয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দারা যা দেখেন, তাতে আতঙ্ক আরও বাড়ে। গিরিধারী নদীর উপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির একটি বড় অংশ ভেঙে নীচে ঝুলে পড়েছে। সেই ভাঙা অংশের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি মালবাহী ডাম্পার। জানা যায়, শুক্রবার সকালে শীতলখুচি থেকে সিতাইয়ের দিকে যাচ্ছিল ওই ডাম্পারটি। সেতুর মাঝ বরাবর পৌঁছনোর পরই হঠাৎ ভেঙে পড়ে অংশবিশেষ। সৌভাগ্যক্রমে চালক ও আশপাশে থাকা মানুষজন প্রাণে বেঁচে যান। তবে স্থানীয়দের মতে, কয়েক সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলে বড়সড় দুর্ঘটনা অনিবার্য ছিল।
এই সেতুটি দেবনাথপাড়া ও বারোমাসিয়া এলাকার মধ্যে অবস্থিত এবং শীতলখুচির সঙ্গে সিতাইয়ের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেতু ভেঙে পড়তেই ওই রুটে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নিত্যযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে রোগীবাহী গাড়ি—সবাই পড়েন চরম ভোগান্তিতে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বহু মানুষকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং সেতুর অবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ওই পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, সেতুটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ছিল। ভারী যান চলাচলের কারণে বিপদের আশঙ্কা ছিল, কিন্তু সেই অনুযায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছরের পুরোনো সেতুতে ভারী যান চলাচলের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না, এমনকি সতর্কতামূলক বোর্ডও লাগানো হয়নি। দ্রুত সেতু সংস্কার, বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে ভারী যানবাহনের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে। এখন শীতলখুচির মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—এই বিপত্তির দায় কে নেবে এবং কবে স্বাভাবিক হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা।





