২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ(west bengal) বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নামতে শুরু করেছে। কখনও কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর, কখনও আবার তীব্র ভাষার রাজনৈতিক আক্রমণ—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন বেশ চঞ্চল। এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
“মৃত*দেহ নিয়ে শকুনের রাজনীতি করছে বিজেপি”
অমিত শাহকে কটাক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে তিনি বলেন, রাজ্যে কার্যত একটি “অনুপ্রবেশকারীদের শিল্প” গড়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চললেও রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। সভামঞ্চ থেকেই শাহ ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে “উপড়ে ফেলবে”।

“২০২৬ সাল হল তৃণমূল কংগ্রেসকে টাটা, বিদায় বলার বছর।”
বক্তব্যের পরের অংশে আরও আক্রমণাত্মক সুরে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “২০২৬ সাল হল তৃণমূল কংগ্রেসকে টাটা, বিদায় বলার বছর।” তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির নিরিখে তৃণমূল এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে তারা একসময়কার বাম সরকারকেও ছাপিয়ে গেছে। শাহ দাবি করেন, অতীতে যখন তিনি বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, তখন তৃণমূল তাঁকে উপহাস করেছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি রাম সেতুর উপমা টেনে বলেন, যেভাবে রাবণ ভগবান রামের কাজকে বিদ্রূপ করেছিলেন, তেমনই তাঁর কথাকেও তখন হালকা করে দেখা হয়েছিল।
শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই থেমে থাকেননি অমিত শাহ। তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ এই বাংলা থেকেই দেশের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সংসদে যখন এই স্লোগান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরাই এর বিরোধিতা করেছিলেন। শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এবং গুজরাট থেকে বাংলা পর্যন্ত এই স্লোগান পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপি সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী আবেগকে আরও জোরালো করতে চাইছে।
এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় শাহের পরবর্তী কর্মসূচি দেখলে। ব্যারাকপুরের সভার পর তিনি উত্তরবঙ্গের বাগডোগরার উদ্দেশ্যে রওনা হন, যেখানে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় বাংলা সফর। বিজেপি সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সংগঠন শক্ত করা এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, শাহের মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। শাসক দলের নেতারা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে “নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর আগে বাংলার রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





