গ্রামবাংলার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সাধারণত যে শান্ত পরিবেশ দেখা যায়, শনিবার অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি, পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের গুড়গ্রামে সেই ছবিটাই বদলে গেল। সাধু-সন্তদের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এক ধর্মীয় সম্মেলন ঘিরে ধীরে ধীরে তৈরি হয় অস্বস্তি ও চাপা উত্তেজনা। প্রথমে কেউই বুঝে উঠতে পারেননি, কীভাবে ধর্মীয় আলোচনা থেকে পরিস্থিতি এমন দিকে মোড় নেবে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে তখনও চলছিল ধর্মকথা, কিন্তু মঞ্চের বাইরে জমতে শুরু করে ভিন্ন সুর—যা শেষ পর্যন্ত পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দেয়।

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে আপত্তি! ধর্মীয় সভায় হিন্দু সাধু আক্রা*ন্ত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরএসএস(RSS)-এর শতবর্ষ উপলক্ষে গুড়গ্রামে একটি ধর্মীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তোলা নিয়ে আপত্তি ওঠে বলে অভিযোগ। বলা হচ্ছে, তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই স্লোগান বন্ধ করার দাবি জানান। এর পরেই প্রশ্ন ওঠে—ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে কি না? দুই পক্ষের মধ্যে কথার কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় উপস্থিত দর্শকরাও বিভক্ত হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বচসা ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ উঠেছে, সেই উত্তেজনার মধ্যেই এক সাধুকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি মারমুখী হয়ে ওঠে। পাল্টা অভিযোগও সামনে আসে—উত্তেজিত জনতার একাংশ এক ব্যক্তিকে মারধর করেন। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ভগবানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আক্রান্ত সাধুকে রাতেই চণ্ডীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। ঘটনার পর পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এবং কীভাবে এই সংঘর্ষ শুরু হল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত—তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। নতুন করে কোনও অশান্তি যাতে না ছড়ায়, সে কারণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সুন্দর পণ্ডা বলেন, ধর্মীয় সভার আড়ালে বিজেপি ও আরএসএস রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়। স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা তারই প্রতিবাদ করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, আয়োজকদের একাংশের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম ও রাজনীতির এই সংঘাত নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—ধর্মীয় মঞ্চ কি আদৌ রাজনীতির বাইরে থাকছে? এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে ভগবানপুরের গুড়গ্রামের মানুষ।





