১ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবারের সন্ধ্যা ছিল সাধারণ দিনের মতো, সাধারণ মানুষ বাজেট ২০২৬ (budget 2026) নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক( kolkata Golpark)সংলগ্ন কাঁকুলিয়া রোডে সেই স্বাভাবিক ছবি মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। সন্ধ্যা নামতেই আচমকা আতঙ্ক ছড়ায় পঞ্চাননতলা এলাকায়। দোকানপাট বন্ধ হতে শুরু করে, মানুষজন ছুটে ঘরে ঢুকে পড়েন। দূর থেকে শোনা যায় বিকট শব্দ—যার উৎস কী, তা প্রথমে কেউ বুঝে উঠতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি যে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে কয়েক মিনিটের মধ্যেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ আচমকা একদল দুষ্কৃতী এলাকায় ঢুকে পড়ে। মুখ বাঁধা অবস্থায় তারা তাণ্ডব চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। প্রথমে ইট ছোড়া, তারপর ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা—এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম বিশৃঙ্খলা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গুলির আওয়াজও শোনা গিয়েছে। আতঙ্কে অনেকে রাস্তায় পড়ে যান, কেউ কেউ মাথায় ইটের আঘাত পান। পরে রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা আধলা ইট, ভাঙা কাচ আর চাপ চাপ রক্ত সেই ভয়াবহতার ছবিই তুলে ধরে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ রাস্তা থেকে গুলির খোল উদ্ধার করে
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রাস্তা থেকে গুলির খোল উদ্ধার করে। এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগও উঠেছে। দুষ্কৃতীরা বোমা ছুড়তে ছুড়তে এলাকা দখলের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রাস্তায় পড়ে থাকা বোমার সুতলি ও পোড়া দাগ সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। একটি পুলিশ ভ্যানের সামনের কাচ ইট ছুঁড়ে ভাঙা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। থানা এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও এত বড় ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, একটি পিকনিককে কেন্দ্র করেই এই ঝামেলার সূত্রপাত। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং যেই অপরাধ করুক, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে এলাকাবাসীর একাংশ এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলবলই এই হামলার নেপথ্যে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও গণেশ পুজোর সময় একই ধরনের তাণ্ডব চালানো হয়েছিল।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তাতেও ক্ষোভ কমেনি। কাউন্সিলর ও পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন—বারবার একই এলাকায় কেন এমন ঘটনা ঘটছে? কেন আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? রবিবার সন্ধ্যার সেই কয়েক ঘণ্টা পঞ্চাননতলার বাসিন্দাদের মনে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে এই আতঙ্ক কতটা কাটে।





