শীতের দাপটে কাঁপছে দেশের রাজধানী দিল্লি, কিন্তু সেই ঠান্ডার মধ্যেই এবার উত্তাপ চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। নির্বাচন যত কাছে আসছে, ততই একের পর এক ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠছে দেশের রাজনীতি। ঠিক এমন আবহেই দিল্লিতে পা রাখলেন পশ্চিমবঙ্গের(west bengal)মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সফরের লক্ষ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ। তবে সেই বৈঠকের আগেই বঙ্গভবন ঘিরে তৈরি হওয়া এক পরিস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে।
বঙ্গভবন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, শুরু প্রশ্ন (Delhi Police Security at Banga Bhavan)
সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির বঙ্গভবনের চারপাশে অস্বাভাবিক নিরাপত্তা চোখে পড়ে। ব্যারিকেড বসিয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। জানা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যাদের ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই পরিবারগুলির সদস্যরা বর্তমানে বঙ্গভবনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ এত কড়া নিরাপত্তা কেন, তা নিয়েই শুরু হয় জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন—ওই পরিবারগুলিকে কি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পৌঁছতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?
ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee Protest)
এই খবর সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় এলে আমরা রেড কার্পেট পেতে দিই, আর দিল্লিতে এসে আমাদের জন্য ব্ল্যাক কার্পেট?” মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য—কেউ যদি লড়াই না করে, তবে তিনি নিজেই সামনে দাঁড়াবেন। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই ‘এক কাপড়ে’ নিজের বাসভবন থেকে রওনা দেন বঙ্গভবনের উদ্দেশে।
অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে মমতা (Mamata–Abhishek at Banga Bhavan)
এই রাজনৈতিক বার্তাকে আরও জোরালো করতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লি পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যেই দু’জনে একসঙ্গে বঙ্গভবনে পৌঁছন। গোটা ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। বিরোধীদের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক বিষয়। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বৈঠক ও বাড়তে থাকা সংঘাত (Election Commission Meeting)
এই ঘটনার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেই বৈঠকে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বিষয়টি তুলে ধরার প্রস্তুতি রয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। সব মিলিয়ে, দিল্লির শীতল আবহাওয়ায় রাজনীতির উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





