আজ সকাল থেকেই দিল্লির(Delhi)রাস্তায় রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছেছে। সাধারণ পথচারী এবং সাংবাদিকরা সরাসরি দেখেছেন কীভাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata Banerjee) নিজেই রাস্তায় নেমে অবস্থান নিয়েছেন। একদিকে তৃণমূলের কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে সংসদের ভিতরে বাজেট অধিবেশনে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। সকাল থেকে দিল্লি পুলিশের উপস্থিতি এবং মমতার সরাসরি বক্তব্য পুরো রাজধানীকে রাজনৈতিক তড়িঘড়ি করে তুলেছে।
বঙ্গ ভবন ঘিরে তৃণমূলের ‘চ্যালেঞ্জ’ (Trinamool Challenge at Bengal Bhavan)
বঙ্গভবন ঘিরে পুলিশি উপস্থিতি তৃণমূলের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গ ভবন পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এটা আমাদের অধিকার হরণ করা। ঘরে ঘরে খুঁজে দেখছে কে কে এসেছে। আমাদের বাড়ি ঘিরে রাখার অধিকার তাদের নেই। ”তিনি আরও যোগ করেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি ব্ল্যাক কার্পেট দিয়ে আমাদের দেখাতে চান, তাহলে আমরা ব্ল্যাক রেজাল্ট দেখাব।” এই বক্তব্য স্পষ্ট করেছে যে, মমতা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাবকে দৃঢ়ভাবে প্রদর্শন করছেন।
সকালের এই উত্তাপের মধ্যেই সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসার সঙ্গে সঙ্গে লোকসভায় উত্তেজনা বাড়ে। সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বক্তৃতার জন্য উঠে আসেন, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের আসনে বসেন। ঠিক সেই সময় শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকা স্লোগান তুলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলেন। এই মুহূর্তে পুরো সংসদ চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যায়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ দেখে সংসদের অধ্যক্ষ ওম বিড়লা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। অধ্যক্ষ তাকে নিজের আসনে বসার অনুরোধ জানান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সংসদের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়। এরপর রাহুল গান্ধী নির্বিঘ্নে তার বক্তৃতা শুরু করেন। এই ঘটনায় দেখা যায় কিভাবে রাস্তায় রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সংসদীয় কার্যক্রম একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
বাইরে মমতা, ভিতরে কল্যাণ – এই দুই কেন্দ্রিক ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তৃণমূল কেবল রাজ্যের রাজনীতি নয়, রাজধানীতেও শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুত। রাস্তায় রাজনৈতিক উপস্থিতি এবং সংসদে সাংসদদের সক্রিয়তা এই বাজেট অধিবেশনকে সাধারণ থেকে একেবারেই উত্তেজনাপূর্ণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি কেন্দ্র এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এভাবে তৃণমূল ঘরে-বাইরে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়েছে এবং সামনে আরও সমীকরণের সূচনা হতে পারে।





