দিল্লির(Delhi) রাজনৈতিক বাতাবরণ এখন অস্বাভাবিক রকমের উত্তপ্ত। দিল্লির পথে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম ! একদিকে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলার রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব পড়ছে জাতীয় রাজনীতির অন্দরে। বঙ্গভবনের সামনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, আর তার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের একের পর এক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই আবহেই সামনে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই অতিরিক্ত টিমের নেতৃত্বে থাকছেন এক জন ডিএসপি ও এক জন ইন্সপেক্টর। মোট ২২ জন পুলিশকর্মীকে রাজধানীতে পাঠানো হচ্ছে, যাঁদের মধ্যে মহিলা ও পুরুষ—দু’ধরনের কর্মীরাই রয়েছেন। শুধুমাত্র সিভিল পুলিশ নয়, রাজ্য সশস্ত্র বাহিনী এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যরাও এই টিমের অংশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
যদিও শুরুতে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তরফে প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলা হয়নি, তবে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকে ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং বঙ্গভবন ঘিরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার যে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে যেভাবে চাণক্যপুরীর নিউ বঙ্গভবন এবং হ্যালি রোডের ওল্ড বঙ্গভবনের সামনে আচমকা পুলিশি তৎপরতা বেড়ে যায়, তাতে আতঙ্ক ছড়ায় সেখানে থাকা বহু পরিবারের মধ্যে।
এই ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও সরাসরি আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ধরা পড়ে ক্ষোভ ও দৃঢ়তা—তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘরের শাড়ি পরেই তিনি ছুটে এসেছেন, কারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এর মধ্যেই দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছতে শুরু করে রাজ্যের অতিরিক্ত বাহিনী। ব্যারাকপুর থেকে আসা আরএএফ-এর থার্ড ব্যাটালিয়ন এবং রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর সেকেন্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সেখানে জড়ো হন। জানা যাচ্ছে, রাত ১টা ৪০-এর বিমানে প্রথম দফায় বেশিরভাগ পুলিশকর্মীকেই দিল্লি পাঠানো হবে। টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বাকিদের ভোরের অন্য ফ্লাইটে পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে এই নাটকীয় পরিস্থিতি রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ককে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, এখন সেটাই নজরে রাখছে গোটা দেশ।





