সকাল থেকেই ফের অ্যাকশন মোডে রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। গত কয়েক মাস ধরেই দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কয়লা পাচার মামলা নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। শুধুমাত্র কলকাতা নয়, দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান এবং দিল্লি-সহ মোট ৯টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে । এই তল্লাশির মূল লক্ষ্য, কয়লা পাচারে, টাকা পাচারে যোগ এবং প্রোটেকশন মানি নেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের বাড়ি।
এই অভিযানেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বুদবুদ থানার OC মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে। মনোরঞ্জন মণ্ডল সম্প্রতি দুই-তিন দিন আগে বুদবুদ থানার দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি বারাবনি থানার OC ছিলেন এবং তখন তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সেই সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়। বর্তমানে কয়লা পাচার মামলা-র তদন্তে ইডি তার বাড়িতে হানা দিয়েছে এবং বিভিন্ন নথি ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার সূত্রেই ইডি জোড়ায় অভিযান চালিয়েছিল। সেদিন একটি দল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছায়, অন্য দল লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন নথি ও ফাইল বের করেছিলেন। ওই সময় থেকেই কয়লা পাচার মামলা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক কাণ্ডে ইডি দায়ের করা মামলার শুনানি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কয়লা পাচার মামলা-র তল্লাশি অভিযান আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি যে কিভাবে এই মামলার উপর পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ উভয়ই তৎপর। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন ইডি জানিয়েছে, মোট ৯ জনকে চিহ্নিত করে তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে, যা মামলার তদন্তকে আরও গভীর করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, কয়লা পাচার মামলা শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের নয়, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকেও প্রভাব ফেলেছে। ইডি-র অভিযান এবং সুপ্রিম কোর্টের শুনানির মিশ্র প্রভাব রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বুধ-বার এই অভিযানটি ইডি কতটা বিস্তৃতভাবে চালাতে পারছে, তা দেখার বিষয়। এই মামলার ফলাফলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজকের তল্লাশি অভিযান প্রমাণ করছে যে, কয়লা পাচার মামলা-র তদন্তে ইডি কোনরকম ছাড় দিচ্ছে না। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েকদিনে এই মামলার নিয়ে আরও বড় খবর আসতে পারে। এদিকে সাধারণ মানুষও এই মামলার দিকে লক্ষ্য রেখেছেন, কারণ এতে সরকারি ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।





