২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম সরকারের পতনের পিছনে যে রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছিল, তার অন্যতম বড় অংশ দিল্লির সাংবাদিক বৈঠক ও তৃণমূল-কংগ্রেস জোট। সেই জোটই বাংলার ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়েছিল। যদিও পরে সেই সমীকরণ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় গেলেও এবার সেই পথেও স্পষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক কারবারিদের প্রশ্ন—২০২৬ সালে কি ফের বদলাবে সমীকরণ? এখানেই গুরুত্ব পাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস জোট (Mamata Banerjee Congress alliance assembly election) আলোচনা।

মঙ্গলবার দিল্লিতে বঙ্গ ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিয়ে হওয়া এই বৈঠকেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন রাহুল গান্ধীর বিহারের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ এবং বাংলায় সম্ভাব্য জোট প্রসঙ্গে। এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই সামনে আসে বহুচর্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস জোট (Mamata Banerjee Congress alliance assembly election) বিষয়টি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারব না। তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় একাই লড়াই করে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সব দল লড়াই করে। লড়তে দিন। যে যার নিজের ভাবনা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমেই কার্যত কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেন তিনি। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস জোট (Mamata Banerjee Congress alliance assembly election) নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তার স্পষ্ট জবাব মিলল।
বাংলায় আসন সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে মমতা বলেন, “আমি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই। তবে এবার আরও বেশি আসন পাব।” শুধু তাই নয়, সাংবাদিক বৈঠক শেষে আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়ের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। তখন ভালো মিষ্টি খাওয়াব। তবে ‘দিল্লি কা লাড্ডু’ নয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট—ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে একক লড়াইয়ের পথেই হাঁটতে চলেছে তৃণমূল। আর সেই বার্তাই আরও একবার নিশ্চিত করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস জোট (Mamata Banerjee Congress alliance assembly election) জল্পনার অবসান।





