চিফ ইলেকশন কমিশনারের অপসারণের প্রক্রিয়া জানালেন EX প্রধান বিচারপতি—ভারতীয় সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিধান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি Debasish Kar Gupta। তিনি জানান, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের প্রভাইসো অনুযায়ী চিফ ইলেকশন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে ঠিক সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, যেভাবে একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণ করা হয়। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত রাখা।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে যে চিফ ইলেকশন কমিশনারকে অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সরাসরি সংবিধানের ১২৪ অনুচ্ছেদ ও তার উপধারা চার-এর সঙ্গে যুক্ত। এই ধারায় বলা হয়েছে, প্রথমে সংসদে একটি ইম্পিচমেন্ট মোশন আনতে হবে এবং সেই মোশন লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনে পাস হতে হবে। এরপরই রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।

এই সম্পূর্ণ পদ্ধতির বিস্তারিত কাঠামো ব্যাখ্যা করা আছে Judges Inquiry Act, 1968-এ। এখানেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে যে, লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদ ও রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত নোটিস স্পিকার অথবা চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হয়। চিফ ইলেকশন কমিশনার অপসারণ সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়ায়, নোটিস গ্রহণের পর স্পিকার বা চেয়ারম্যান সন্তুষ্ট হলে একটি ইনকয়ারি কমিটি গঠন করা হয়।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আরও জানান, এই ইনকয়ারি কমিটিতে থাকেন একজন Supreme Court of India-এর বিচারপতি, একটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। কমিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে আদৌ ‘মিসবিহেভিয়ার’ বা ‘ইনক্যাপাসিটি’ হয়েছে কি না। রিপোর্টে অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি আবার সংসদের দুই কক্ষে ভোটাভুটির জন্য তোলা হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছানো মানেই চিফ ইলেকশন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করা।
সময়সীমা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে Debasish Kar Gupta বলেন, এই প্রক্রিয়াটি অকারণে দীর্ঘ হওয়ার কথা নয়। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন থাকলে ইনকয়ারি রিপোর্ট জমা পড়ার পর দ্রুতই মোশন আনা ও ভোটাভুটি সম্ভব। অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এক সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ভি. রামস্বামীর বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা সংসদে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে আজ পর্যন্ত চিফ ইলেকশন কমিশনারের অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে কাউকে পদচ্যুত করার নজির নেই, বলেই মন্তব্য করেন তিনি।





