এসআইআরের আবহে birth certificate কালোবাজারির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে কলকাতা পুরসভা। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) শুরু হতেই জন্মের ডিজিটাল শংসাপত্রের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরসভার জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বিভাগে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে দ্রুত শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এসআইআরের আবহে birth certificate-এর বেআইনি বাণিজ্য মূলত সেই সব নাগরিকদের টার্গেট করছে, যাঁদের পাসপোর্ট নবীকরণ বা এসআইআর শুনানির জন্য দ্রুত জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্র দরকার। পুরসভার চ্যাটবট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্লট পেতে অনেকেরই দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই বিলম্বই দালালচক্রের জন্য ‘সুবর্ণ সুযোগ’ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ।

নাগরিকদের একাংশ জানিয়েছেন, এসআইআর ঘিরে জন্ম শংসাপত্রের কালোবাজারি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিটি শংসাপত্রের জন্য ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু পুরকর্মী ও দালালের যোগসাজশেই এই বেআইনি লেনদেন চলছে। এমনকি বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও অনেকের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার এক নাগরিকের কাছে দ্রুত জন্মের শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই এসআইআরের আবহে birth certificate কালোবাজারির বিষয়টি পুর প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পৌঁছয়। অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট নাগরিককে নিয়ম মেনেই শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
শুধু সাধারণ মানুষই নন, অভিযোগের তালিকায় রয়েছে পুরসভার এক আধিকারিকের আত্মীয়ের ঘটনাও। জানা গিয়েছে, জন্ম শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতেই তাঁর কাছেও অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শংসাপত্র মেলে। এতে আরও স্পষ্ট হচ্ছে যে এসআইআরের প্রেক্ষিতে birth certificate কালোবাজারি পুরসভার অন্দরেই শিকড় গেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যদি কেউ সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, নাগরিকদের উচিত শুধুমাত্র সরকারি চ্যাটবট ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন করা। দালাল এড়িয়ে চললেই এসআইআরের আবহে birth certificate কালোবাজারির মতো অনিয়ম রুখে দেওয়া সম্ভব।





