বৃহস্পতিবার রাজ্যের ডিএ মামলার রায় (05.02.2026) ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ডিএ মামলার রায় ঘোষণার আগে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্বর্তী নির্দেশ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এবং ছ’সপ্তাহের সময়সীমাও বেঁধে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রাজ্য সরকার সেই অর্থ দিতে ব্যর্থ হয়, যা আদালতের নির্দেশ অমান্য হিসেবেই দেখছেন কর্মী সংগঠনগুলি।
এই মামলার পটভূমি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার ঘোষিত ডিএ মামলার রায়ের আগে আরও ছ’মাস সময় চেয়ে আবেদন জানায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের ৪ থেকে ৭ অগস্ট টানা শুনানি চলে বিচারপতি কারোল ও বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চে। রাজ্যের দাবি ছিল, আর্থিক সঙ্কটের কারণে এককালীন বকেয়া ডিএ মেটানো সম্ভব নয়।
মামলার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রাজ্যের ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায় (05.02.2026) আসার আগে এই লড়াই বহু স্তর পেরিয়েছে। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT), কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল—ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়ার যোগ্য তাঁরা। সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায় রাজ্য।
এখানেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে রাজ্যের যুক্তি। বৃহস্পতিবার ডিএ মামলার রায় ঘোষণার দিন রাজ্য যে অবস্থানে অনড়, তা হল—মহার্ঘ ভাতা কোনও মৌলিক অধিকার নয় এবং ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলকও নয়। রাজ্যের আইনজীবীদের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক কাঠামো এক নয়, ফলে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কোনও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।
তবে কর্মী সংগঠনগুলির পাল্টা প্রশ্ন—যদি ডিএ অধিকার না হয়, তবে হাই কোর্ট কেন তা অধিকার বলে স্বীকৃতি দিল? ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাজ্যের ডিএ মামলার রায় সেই প্রশ্নেরই চূড়ান্ত উত্তর দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটেও বকেয়া ডিএ-র জন্য কোনও আলাদা বরাদ্দ রাখেনি রাজ্য সরকার, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের ডিএ মামলার রায় শুধু সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ নয়, রাজ্যের আর্থিক নীতি ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়েও বড়সড় বার্তা দিতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্ট কি রাজ্যের আর্থিক যুক্তিকে মান্যতা দেবে, না কি কর্মীদের অধিকারকেই প্রাধান্য দেবে—সেই দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।






