দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের একটাই প্রশ্ন—কবে মিলবে বকেয়া ডিএ? মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে সেই অপেক্ষাই যেন হয়ে উঠেছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বাজেট আসে, বাজেট যায়, আশ্বাস থাকে, কিন্তু বাস্তবের ছবিটা বদলায় না। ঠিক এই আবহেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ডিএ মামলা (DA Case)। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) এজলাসে চলতে থাকা এই মামলার দিকে তাকিয়ে ছিল লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মীর চোখ। অবশেষে সেই অপেক্ষার মধ্যেই এল বড় নির্দেশ, যা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে, “এখনই ২৫% ডিএ মেটাতে হবে” সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ।
এই মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, রাজ্য সরকারি কর্মীদের অনন্তকাল অপেক্ষায় রাখা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ডিএ (Dearness Allowance) কোনও দয়া নয়, এটি কর্মীদের প্রাপ্য। সেই সূত্র ধরেই বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ এখনই মিটিয়ে দিতে হবে। এই নির্দেশ কোনও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নয়, বরং অবিলম্বে কার্যকর করার মতো কড়া নির্দেশ হিসেবেই ধরা হচ্ছে। আদালতের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, বিষয়টিকে আর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হল, তা জানিয়ে ১৫ মে-র মধ্যে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দিতেও বলা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। এই কমিটি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ ও রাজ্য হারে ডিএ-র ফারাক, আর্থিক পরিস্থিতি ও বাস্তব সম্ভাবনা—সব দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান প্রায় ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই মূলত এতদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
এই ডিএ মামলা নতুন কোনও বিষয় নয়। প্রায় এক দশক ধরে এক আদালত থেকে আরেক আদালতে ঘুরেছে এই মামলা। কখনও উচ্চ আদালত, কখনও সুপ্রিম কোর্ট—প্রতিটি ধাপে কর্মীদের আশা জেগেছে, আবার ভেঙেছেও। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, শুনানির দিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে। সেই নির্দেশে আদালত জানিয়েছিল, ‘ডিএ পাওয়া মৌলিক অধিকার কি না, তা বিবেচনার বিষয়। কিন্তু সেই বিবেচনার নামে কর্মীদের অনন্তকাল অপেক্ষা করানো যায় না।’ তবুও বাস্তবে রাজ্য সরকার কোনও অর্থ মেটায়নি, ফলে হতাশা আরও বেড়েছিল।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই চূড়ান্ত নির্দেশের পর কি সত্যিই কর্মীদের অপেক্ষার অবসান হবে? নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকার কি ডিএ মেটাতে পারবে? নাকি আবারও কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে যাবে প্রক্রিয়া? সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা। তবে সেই স্বস্তি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে, না কি বাস্তবেও প্রতিফলিত হবে—তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই। আপাতত, ডিএ মামলা (DA Case) নিয়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী।





