কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ স্পষ্ট। এবার সেই উত্তাপ আরও বাড়ছে, কারণ বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এটাই শেষ বাজেট। আজ বিধানসভায় পেশ হচ্ছে রাজ্যের ভোট অন অ্যাকাউন্ট (Vote on Account)। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—Bengal Budget 2026-এ সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা দিতে চলেছে নবান্ন? ভোটের আগে এই বাজেটে কি বড় কোনও চমক থাকছে?
কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘বেসলেস’ ও ‘বাংলা বিরোধী’ বলে আগেই আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই আবহেই আজকের Bengal Budget 2026 শুধুমাত্র হিসাবের খাতা নয়, রাজনৈতিক বার্তাবাহক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের আগে রাজ্যবাসীর মন জয়ের জন্য কোন কোন প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে বেশি জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পকে ঘিরে। মহিলা ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ভিত, তা বারবার প্রমাণিত। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় থেকেই একে রাজনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে মনে করেন অনেকে। পরবর্তী লোকসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পে অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। ফলে Bengal Budget 2026-এ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবারও বরাদ্দ বাড়ে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তুঙ্গে।

বর্তমানে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠছে—ভোটের আগে কি এই অঙ্ক আরও বাড়ানো হবে? যদি বাড়ে, তাহলে কতটা? অনেকের ধারণা, সামান্য হলেও মাসিক অনুদান বৃদ্ধির ঘোষণা হতে পারে। কারণ, Bengal Budget 2026-এর মাধ্যমে মহিলা ভোটারদের কাছে আরও একবার ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে চাইতে পারে নবান্ন।
তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই একমাত্র ফোকাস নয়। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (Dearness Allowance) নিয়েও নজর রয়েছে এই বাজেটের দিকে। আজই সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে Bengal Budget 2026-এ ডিএ নিয়ে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগী।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন আশা কর্মীরা (ASHA Workers)। তাঁদের অভিযোগ, কাজের তুলনায় পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। ভোটের মুখে এই অসন্তোষ মেটাতে সরকার কোনও আর্থিক ঘোষণা করে কি না, সেটাও আজকের Bengal Budget 2026-এর বড় ফ্যাক্টর। কারণ, এই মুহূর্তে যে কোনও আন্দোলন ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও নজরে রয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteers) ভাতা বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ধরেই ভাতা বাড়ানোর দাবি তুলছেন তাঁরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ। ভোটের আগে শেষ বাজেটে এই অংশের জন্য কোনও সুখবর থাকে কি না, সেটাও Bengal Budget 2026-এর অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
সব মিলিয়ে, আজকের বাজেট শুধুমাত্র আর্থিক নথি নয়, বরং ভোটের আগে তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক রোডম্যাপ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ, আশা কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার—সব ক্ষেত্রেই যদি কিছু বাড়তি বরাদ্দ বা ঘোষণা আসে, তাহলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে ভোটের ময়দানে। এখন দেখার, Bengal Budget 2026-এর মাধ্যমে নবান্ন কতটা চমক দিতে পারে এবং কতটা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়।





