দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, লাগাতার আন্দোলন, আইনি লড়াই—সব কিছুর শেষে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী। বছরের পর বছর ধরে যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল—মহার্ঘ ভাতা (DA) কি কর্মচারীদের অধিকার, না সরকারের দয়া—সেই প্রশ্নেরই চূড়ান্ত জবাব দিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলা ঘিরে বৃহস্পতিবারের রায় কার্যত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করল।
সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর এজলাসে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চে চলছিল বহু প্রতীক্ষিত শুনানি। সকাল থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নজর ছিল আদালতের দিকে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায়—এবার আর সময় চাইলেই রেহাই নয়। সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলা-এ রাজ্য সরকারকে একেবারে তারিখ বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে।
বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ পরিবার এই রায়ের ফলে সরাসরি উপকৃত হতে চলেছে। বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা না পাওয়ার যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল, সেই ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আদালতের এই নির্দেশকে ঐতিহাসিক বলে ব্যাখ্যা করছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা।
রায় প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকারকে নিশানা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করলেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। ডিএ কোনো অনুদান নয়, এটি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছিলেন ডিএ অধিকার নয়, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও লেখেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরেও রাজ্য সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা দিতে চায়নি। উল্টে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দেশের তাবড় আইনজীবীদের দাঁড় করানো হয়েছে, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মচারী-দের ডিএ আটকানোর উদ্দেশ্যে। তাঁর ভাষায়, এই সরকার সরকারি কর্মচারীদের প্রতি বারবার অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
৩১ মার্চের মধ্যে টাকা না পেলে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি
আদালতের নির্দেশে স্বস্তি মিললেও আন্দোলন থামাতে রাজি নয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ না মেটানো হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামা হবে। ফলে সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলা নিয়ে চাপ যে এখানেই শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।
বাজেটের দিনেই বাড়তি চাপ নবান্নে
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, আজ বুধবারই রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার কথা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্যের মোট খরচ হতে পারে ৪৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাই বাজেটে এই অর্থের সংস্থান থাকে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে কর্মচারীরা। আশাবাদী একাংশের ধারণা, আদালতের কড়া নির্দেশের পর বাজেটে বাড়তি বরাদ্দের ইঙ্গিত মিলতে পারে।
ডিএ মামলা এখন শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ইস্যু
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলা এখন আর শুধুই একটি আইনি লড়াই নয়, এটি রাজ্যের প্রশাসন, রাজনীতি এবং অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ৩১ মার্চের ডেডলাইন পার হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





