রাজ্যের বাজেট মানেই সাধারণ মানুষের চোখে একরাশ প্রত্যাশা। সংসার চালানোর চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা, পড়াশোনা শেষ করেও কাজ না পাওয়ার হতাশা—এই সব প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে মানুষের মনে। ঠিক এই আবহেই ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হল। আর শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, এবারের বাজেট শুধু হিসেবের খাতা নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষার দিকেও বড় বার্তা দিচ্ছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পেশ করা এই অন্তর্বর্তী বাজেটে বারবার উঠে এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক ভাবনা। আগের মতোই মহিলা-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি বজায় থাকলেও, এবার নজর কাড়ল যুবসমাজকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা। বাজেট বক্তৃতার শুরু থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল—এবার কিছু বড় ঘোষণা আসতে চলেছে।
মহিলাদের জন্য রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ফের বাড়তি বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ছে এই ভাতা, যা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার সংসারে স্বস্তি আনবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। পাশাপাশি কন্যাশ্রী প্রকল্পও আগের মতোই বহাল থাকছে, ফলে পড়াশোনা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা আরও বেশি সুবিধা পাবে।
তবে এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় চমক যুবসমাজকে ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন নতুন ‘যুব সাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে রাজ্যের যুবক-যুবতীরা শুধুমাত্র মাধ্যমিক পাশ করলেই মাসিক ভাতা পাবেন। চাকরি না থাকলেও, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য বাজেটে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাসিক ভাতা যুবকদের দৈনন্দিন খরচ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে এই ঘোষণা রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে West Bengal Budget 2026 রাজ্যের মহিলা ও যুবসমাজের জন্য যে বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল, তা বলাই বাহুল্য।





