রাজনৈতিক উত্তাপ, রাস্তায় আন্দোলন আর ভোটের প্রস্তুতির মাঝেই রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পথে নেমেছিলেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত আশাকর্মীরা। শহর থেকে জেলা—সর্বত্র সেই বিক্ষোভের রেশ ছিল স্পষ্ট। ঠিক এই আবহেই আশাকর্মী ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের বাজেট ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন—এইবার আদৌ কি দাবি পূরণ হল?

দ্বিতীয় দফায় বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সামনে আসতেই পরিষ্কার হয়, শুধু আশাকর্মী নন—প্যারাটিচার, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আশাকর্মী ভাতা বৃদ্ধি করে মাসিক ভাতায় ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই হারে ভাতা বাড়ছে প্যারাটিচার ও সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও। পাশাপাশি ভিলেজ পুলিশ ও গ্রিন পুলিশের মাসিক ভাতাও ১,০০০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্তরের কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
শুধুমাত্র ভাতা বাড়ানোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি সরকার। আশাকর্মী ভাতা বৃদ্ধি-র পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। কর্মরত অবস্থায় সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। একই সুবিধা আশাকর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাশাপাশি আশাকর্মীদের জন্য ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির ঘোষণাও বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আশাকর্মী ভাতা বৃদ্ধি-র সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতাও ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে ৪,০০০ টাকা অনুদান দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সবশেষে বাজেটের সবচেয়ে চর্চিত ঘোষণা—বেকার ভাতা। আশাকর্মী ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার মাঝেই রাজ্য জানিয়েছে, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪১ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ১৫ অগাস্ট থেকে এই ভাতা দেওয়া শুরু হবে এবং কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বাধিক ৫ বছর মিলবে এই সুবিধা। ভোটের আগে শেষ বাজেটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘মাস্টার স্ট্রোক’ বলছেন, আবার বিরোধীদের মতে, এটি রাজনৈতিক কৌশল। তবে বাস্তবে এর প্রভাব কী হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





