একটি গ্রেপ্তার সবসময় শুধুই আইনি ঘটনা নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে ক্ষমতার প্রদর্শন। কলকাতা পুলিশের হাতে সোশ্যাল মিডিয়া ইউটিউবার Shamik Adhikary-র গ্রেপ্তার সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে। এটি কি নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ, না কি সরকারের কড়া সমালোচককে চুপ করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পিত প্রয়াস—এই দ্বন্দ্বেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
পুলিশি অভিযোগ অনুযায়ী বেহালা থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে Shamik Adhikary-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে এবং মেডিকো-লিগাল পরীক্ষার রিপোর্টকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, আইন তার নিজের পথে চলছে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন—অভিযোগের সময়কাল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কি আদৌ আলাদা করে দেখা হচ্ছে?
কারণ Shamik Adhikary দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নারীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল। ঠিক সেই সময়েই তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায় সমর্থকদের একাংশ দাবি করছেন, সরকারের অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলার মূল্যই কি এই গ্রেপ্তার?
এই গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দ্রুত তীব্র হয়। বিরোধীদের দাবি, Shamik Adhikary-র ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়—এটি ভিন্নমত দমনের ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁদের বক্তব্য, মামলা ও গ্রেপ্তারকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে অন্য সোশ্যাল মিডিয়া কণ্ঠস্বররাও সাবধান হয়ে যায়। Samik Adhikary – র বাবার বক্তব্য আমারবাগ টিভির মাধ্যমে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে শাসক শিবির বলছে, Shamik Adhikary জনপ্রিয় ইউটিউবার হলেও আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবেই—এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন রাজনৈতিক বক্তব্যে মামলার দিকনির্দেশ ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে? এতে কি বিচারপ্রক্রিয়ার উপর জনআস্থা দুর্বল হচ্ছে না?
সোশ্যাল মিডিয়ায় Shamik Adhikary মামলাকে ঘিরে মতভেদ স্পষ্ট। একপক্ষ বলছে, সরকারবিরোধী কণ্ঠ বলেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে; অন্যপক্ষের মতে, জনপ্রিয়তা কোনও অপরাধের ঢাল হতে পারে না। এই দ্বন্দ্বই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বাস্তবতা—যেখানে অপরাধ, রাজনীতি ও ডিজিটাল প্রভাব একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত Shamik Adhikary মামলায় আসল পরীক্ষাটা হবে তদন্তের নিরপেক্ষতা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তি হোক, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি—এটাই আইনের দাবি। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক রায় দিয়ে দিলে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই গ্রেপ্তার তাই আর শুধু একটি মামলা নয়, বরং বাংলার গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার প্রয়োগের সংঘাতের প্রতিচ্ছবি।






