আজ ৭ই ফেব্রুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে SIR-শুনানির শেষ দিন। রাজ্যজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক চলছে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সকলেই আজকের দিনটি নজর রাখছেন। শনিবারের এই শুনানির মধ্যে অন্তত কিছুই বাদ যাবে না, তা নিশ্চিত না হলেও, ভোটারদের জন্য বড় ধরনের প্রভাব থাকতে পারে।
গত শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজিরা দেননি বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে যারা আজ শনিবার শেষ দিনে উপস্থিত থাকবেন না, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ঠিকানায় নোটিস পাঠিয়ে তাঁদেরকে সতর্ক করা হবে, খবর CEO দফতর সূত্রে। এই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর রয়েছে এবং ভোটারদের জন্য এটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা।
SIR-এর খসড়া তালিকায় ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। CEO দফতর সূত্রে খবর, আর প্রায় ৫ লক্ষ নাম আজকের শুনানিতে বাদ যেতে পারে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট প্রায় ৬৩ লক্ষ মানুষের নাম SIR-এর প্রক্রিয়ায় বাদ যেতে পারে। এই সংখ্যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ ঠিক রাখা হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় উত্তর কলকাতার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানির সময়সীমা বাড়তে পারে। একইভাবে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা ও কার্শিয়ং জেলাতেও সময়সীমা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
SIR-নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে দিল্লি পৌঁছে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং বুলডোজ করা হচ্ছে। এর পাল্টা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাম না করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে আজ SIR-এর শুনানির শেষ দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ যারা শেষ দিনে হাজিরা দেবেন না, তাঁদের নাম বাদ যাবে। এর ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বড় পরিবর্তন আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া ভোটার সচেতনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে SIR-এর শেষ শুনানি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। গত শুক্রবার প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার উপস্থিত না থাকায়, আজ শনিবারের উপস্থিতি চূড়ান্ত তালিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই শুনানির ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে, শেষ পর্যন্ত কত ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে এবং কত নাম বাদ যাবে।





