উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) উত্তর ব্যারাকপুরে (North Barrackpore) লাথি মারার অভিযোগে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ৮১ বছরের তুলসী অধিকারীকে মারধর ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। লাথি মারার অভিযোগেই যে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ মোড় নেবে, তা ভাবতেই পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবারের দাবি, বাড়ির জমিতে প্রতিবেশীর বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction) ঘিরেই শুরু হয় বিবাদ। সেই নির্মাণের কারণে নিকাশি ব্যবস্থা (Drainage System) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। প্রথমে স্থানীয় কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হলেও অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বেআইনি নির্মাণকারীদের পক্ষ নেন। এরপর পুরসভায় (Municipality) অভিযোগ জানানো হয়। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর। এই উত্তেজনার মধ্যেই সামনে আসে লাথি মারার অভিযোগ, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি।
পরিবার জানায়, প্রতিবাদের সময় প্রথমে তুলসী অধিকারীর ছেলেকে মারধর করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে বৃদ্ধকে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। মৃতের পুত্রবধূ পারমিতা অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি বৃদ্ধকে ধাক্কা ও লাথি মারা হয়। দ্বিতীয়বার লাথি মারার পর তুলসী অধিকারী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই লাথি মারার অভিযোগই এখন গোটা ঘটনার কেন্দ্রে।
পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে (Barrackpore Cantonment Hospital) নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল কাউন্সিলর ও আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে। লাথি মারার অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড (Suspended) করে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, একই ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা স্বাতী করের অভিযোগ, বাড়ি কিনেও কাউন্সিলরকে টাকা না দেওয়ায় তিনি বাড়িতে ঢুকতে বা সংস্কার করতে পারেননি। এই সব অভিযোগ মিলিয়ে লাথি মারার অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনা রাজনৈতিক অস্বস্তিও বাড়িয়েছে। এমনকি ব্যারাকপুরে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।





