হুগলির (Hooghly) চণ্ডীতলা (Chanditala) এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবেশী তরুণীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে ওঠায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের অন্দরমহলের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের মতে, জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গ্রামীণ সমাজে ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গ্রামে বসে সালিশিসভা। সেখানেই প্রতিবেশী তরুণীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সভার মধ্যেই অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে চণ্ডীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
নির্যাতিতার দাদা জানান, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিবেশী তরুণীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে তাঁদের পরিবার প্রথমে বুঝতে পারেনি। এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর গ্রামবাসীদের নিয়ে সালিশির সিদ্ধান্ত হয়। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ বন্ধ হবে না। নির্যাতিতার আত্মীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ স্পষ্ট।
ঘটনার জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরের চাপও বাড়ছে। প্রতিবেশী তরুণীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে ওঠার পর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ জন সদস্য ও তিন জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রধানের কাছে লিখিত আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তের পঞ্চায়েত সদস্যপদ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পঞ্চায়েত প্রধান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এই ঘটনায় বিরোধীরা শাসকদলকে নিশানা করতে ছাড়েনি। সিপিআইএম (CPIM) নেতা মনোজ চল বলেন, প্রতিবেশী তরুণীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর বিরুদ্ধে উঠলে প্রশ্ন ওঠে—এরা গ্রাম উন্নয়ন করবেন কীভাবে? অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, অপরাধ করলে দল দেখবে না, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।





