বুলেট ট্রেন(Bullet Train)এই শব্দটিই এখন ঘুরছে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি রেল মহলেও। কেন্দ্রীয় বাজেটের পর পশ্চিমবঙ্গকে(west bengal) ‘বঞ্চনা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(mamata Banerjee)। কিন্তু সেই বিতর্কের মধ্যেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Ashwini Vaishnaw)ঘোষণায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খুব শিগগিরই শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি হলে ছুটবে বুলেট ট্রেন । এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে উত্তর ভারতের যোগাযোগে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে।
বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রেলমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ তাদের প্রথম হাইস্পিড ট্রেন পরিষেবা পেতে চলেছে শিলিগুড়ি থেকেই। এই ট্রেনটি পটনা হয়ে সোজা পৌঁছবে বারাণসীতে। বাজেটে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি–বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রেল আধিকারিকদের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই বুলেট ট্রেন চালু হলে তিন ঘণ্টারও কম সময়ে শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পৌঁছনো সম্ভব হবে, যা বর্তমানে রেলযাত্রায় কল্পনাতীত।

বুলেট ট্রেন ঘিরে পরিকল্পনা এখানেই থেমে নেই, বাজেটে আরও জানানো হয়েছে, বারাণসী থেকে দিল্লি পর্যন্ত একটি আলাদা হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী এবং বারাণসী থেকে দিল্লি—এই দুই করিডর যুক্ত হলে দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত থেকে রাজধানী পৌঁছনো হবে অনেক দ্রুত। যদিও একই বুলেট ট্রেনে দিল্লি যাওয়া যাবে, না কি বারাণসীতে ট্রেন বদলাতে হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই হাইস্পিড রেল করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়ির কাছে চিকেনস নেক এলাকায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ জুড়ে মাটির নীচে ট্রেন চালানোর ভাবনাও রয়েছে। মেট্রোর মতো এই ভূগর্ভস্থ রেলপথ জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র।
বুলেট ট্রেন প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। হুগলির ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরত পর্যন্ত একটি নতুন ফ্রেট করিডর তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই করিডর চালু হলে শিল্প, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহণে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এসব ঘোষণার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়েছে।
বুলেট ট্রেন সহ একাধিক রেল প্রকল্পের জন্য চলতি বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪,২০৫ কোটি টাকা। রেলমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি রাজ্যের জন্য রেকর্ড বরাদ্দ। তাঁর কথায়, নতুন ট্রেন চালু করা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নই এখন কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই এক ডজনের বেশি নতুন ট্রেন পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বুলেট ট্রেনকে কেন্দ্র করেই বাংলার রেল মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।





